প্রতিক্রিয়া

আর আমি হবো ধ্বংসতারাঃ তানজীম রহমানের সাই-ফাই অ্যাকশন থ্রিলার

লড়াইটা দৃষ্টিভঙ্গির দখল নিয়ে। পটভূমি ভবিষ্যতের কোনো এক অজানা সময়, অজানা দেশ। যে সময়ে আবিষ্কৃত হয়েছে কোনো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে সংগ্রহ করার উপায়। এমন যখন পরিস্থিতি, তখন তার অন্যায় সুযোগ নেয়ার লোকেরও তো অভাব হবে না, স্বাভাবিক সেটাই। এখানেও তাই দেখা যায় – দৃষ্টিভঙ্গি এখন সবচেয়ে মূল্যবান মাদকের নাম। তাই সেটা চুরি করার জন্যেও উদয় হয় নতুন একদল চোরের। এমন এক চুরির কাহিনী নিয়েই এগিয়ে গেছে বইয়ের কাহিনী।

কাহিনী নিয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। লেখকের প্রথম বই আর্কনের সাথে এই বইটার একটা মিল ধরা পড়ে চোখে – একাধিক চরিত্রের জবানে গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। চুরি হয়ে গেছে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গিটা – এবার তার পরিণতি কি হবে, এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে খুজতেই পাঠক কাহিনী ধরে এগিয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত যে টুইস্টটা ধরা পড়বে চোখে তা আসলেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে কখনও কখনও গুজবে কান দেয়ার ফল কতটা ভয়ানক হতে পারে। এমনকি পাঠকের নিজের দৃষ্টিভংগি বদলে যাওয়াও অসম্ভব কিছু নয়!

তানজীম রহমানের আগের দুটো বইই পড়া ছিল, সেই সুবাদে তিন নম্বর বইটা পড়তেও দেরি করিনি। পড়ার পর এ কথা বলতে পারি যে লেখক এই মুহূর্তে বাংলা থ্রিলার জগতে অন্যতম সেরা নক্ষত্র। তার বর্ণনার ভঙ্গি সাবলীল, অ্যাকশন দৃশ্যগুলো পড়ার সময় মনে হচ্ছিল আমি নিজেই অকুস্থলে উপস্থিত। সুচারু উপমার ব্যবহারে বর্ণনা আরও নিখুঁত হয়েছে। বইটা হাতে নিয়ে পড়্রতে শুরু করার যখন প্রথম পৃষ্ঠা সংখ্যার দিকে খেয়াল করলাম তখন দেখি ১১৪ পৃষ্ঠায় চলে এসেছি! পাঠককে এভাবে বইয়ের সাথে আটকে রাখতে পারাই সম্ভবত লেখকের সবচেয়ে বড় দক্ষতা। অভিনন্দন রইল তানজীম ভাই। সাই ফাই থ্রিলারকে নতুন চেহারায় বাংলা ভাষার পাঠকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *