রম্য

পার্থক্য

মেয়েদের থোঁতা মুখ ভোঁতা হওয়ার কাহিনী দেখা যায় ভার্সিটি লাইফে। ফার্স্ট ইয়ারে তারা লন্ডন-আমেরিকায় প্রবাসী পাত্র ছাড়া বিয়ে তো দূরের কথা প্রেমও করতে চায় না।
সেকেন্ড ইয়ারে সেইটা নেমে আসে ডিএমসি বা বুয়েটে। ভাব দেখলে মনে হয় বাংলাদেশের সব মেয়ের বয়ফ্রেন্ড এই দুই প্রতিষ্ঠানেই পড়ে।
থার্ড ইয়ারে ব্যাপারটা আরও ডিমোটেড হয়, তখন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাই হইলেই তারা খুশি।
এবং ফাইনাল ইয়ারে সেইটা নেমে আসে ক্লাসমেট বা ব্যাচমেটে, কেউ কেউ আবার জুনিয়রেও নেমে আসে!
আর ছেলেদের থোঁতা মুখ ভোঁতা হওয়ার কাহিনী দেখা যায় ভার্সিটি শেষ করে বের হওয়ার পর। প্রথমে তাদের টার্গেট থাকে পড়াশোনা শেষ করেই লন্ডন আমেরিকায় চলে যাওয়ার। খুব সম্ভব তারা উপরে উল্লেখিত ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েদের বয়ফ্রেন্ড হওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা পোষণ করে।
কিছুদিন পর তারা বুঝতে পারে বাইরে যাওয়া ছেলের হাতের মোয়া নয়। তখন তারা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী বা বিসিএস এ ফরেন এ্যাফেয়ার্স বা এ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ঢোকার। বছরখানেক ধুমিয়ে পড়াশোনা এবং অজস্র জায়গায় পরীক্ষা ও ভাইভা ফেস করার পর যখন সেখানেও হয় না তখন তাদের টার্গেট আরেকটু নেমে আসে।
এবার তারা টার্গেট করে কোন একটা প্রাইভেট বা ছোটখাট কোম্পানীতে মোটামুটি সম্মানজনক বেতনে চাকরীতে ঢোকার। তখন আর এত বাছাবাছি থাকে না, যেখানে সুযোগ পায় সেখানেই এপ্লাই করা শুরু করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেখানেও একান্ত ভাগ্যবানরা ছাড়া কেউ ঢুকতে পারে না। কি করে ঢুকবে, মামা চাচার জোর ছাড়া এই দেশে কোন দিন কিছু হয়েছে?
এবার তারা একেবারে উন্মাদ হয়ে যায়। যে কোন একটা চাকরী পাইলেই তারা ঈদের মত খুশি। মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে, জুতোর তলা ক্ষয়ে যাচ্ছে, বিয়ের বয়স চলে যাচ্ছে। একটা চাকরী না পেলে কিভাবে হবে? কেউ কেউ অবশেষে কিছু একটা পেয়ে যায়। যারা পায় না তারা এর ওর কাছ থেকে ধার করে পাড়ার মোড়ে মুদী দোকান খুলে বসে, অথবা ধ্যাত্তেরিকা বলে বান্দরবানের নির্জন পাহাড়ে সন্যাসী হয়ে বসে যায়। বাঙালীর ছেলে তো, হিমালয় পর্যন্ত যাওয়ার সাহস সঞ্চয় করতে পারে না!
আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *