ছোট গল্প ভৌতিক

মুখোমুখি

নিশুতি রাতের রাজপথ ধরে বাড়ি ফিরছিলাম। অফিস শেষ করে ফিরতে একটু দেরিই হয়ে গেল আজ। মাঝে মাঝে শো শো করে ছুটে যাচ্ছে দুই একটা গাড়ি। তা ছাড়া চারদিক নির্জন, নিস্তব্ধ।

নির্জন পথ বলেই হয়তো, কিছুক্ষণ ধরে একটা অস্বস্তি বোধ করছি। মনে হচ্ছে কে যেন আসছে আমার পিছু পিছু।

অস্বস্তি বেড়েই চলেছে ক্রমে। শেষে থাকতে না পেরে অনিচ্ছাস্বত্বেও পেছন ফিরে তাকালাম আমি।

সত্যিই তো! কে যেন আসছে হেটে হেটে। আমার থেকে পনের বিশ গজ দূরে হবে। অন্ধকারে ঢেকে আছে মুখটা। হঠাৎ ল্যাম্পপোস্ট থেকে এক চিলতে আলো এসে পড়ে লোকটার মুখে। লোকটাকে চিনতে পেরে প্রচন্ড আতঙ্কে শিউরে উঠি আমি।
লোকটার চেহারা অবিকল আমার মত!

———————–

বেশ কিছুক্ষণ ধরে সামনে হেটে চলা লোকটাকে খেয়াল করছি। অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গেছে ঠিক। কিন্তু রাস্তা যে এত নির্জন হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি। একা একা হাটতে খারাপ লাগছিলো। সামনের লোকটাকে দেখে কিছুটা হলেও সাহস লাগছে। একসাথে গল্প করতে করতে যাওয়া যায় অবশ্য।

লোকটার হাটার ভঙ্গিটা অবশ্য খুব চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু কোথায় দেখেছি মনে করতে পারছি না। হাটার গতি আরেকটু বাড়িয়ে দিয়ে লোকটার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলাম। এই সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরে তাকাল লোকটা।

ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোতে লোকটার চেহারা দেখতে পেয়ে শীরদাড়া বেয়ে ভয়ের একটা স্রোত শিরশির করে নেমে গেল আমার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *