ধারাবাহিক ফিচার

ক্লাইড ব্যারো, বনি পার্কারঃ সন্ত্রাসের রাজত্বে প্রেম (দ্বিতীয় খণ্ড)

প্রথম খন্ড

এর পর তারা আশ্রয় নেয় মিসৌরির আরেক শহরের একটি হোটেলে। হোটেলে ছিল দুটো কেবিন, দুটোই তারা ভাড়া করে। পাশেই একটি রেস্টুরেন্ট ছিল যেখানে পুলিশরা প্রায়ই খেতে আসত। হোটেলের মালিক এই নতুন অতিথিদের আচরণে সন্দেহ করতে শুরু করে। তাদের এলোমেলো পোশাক, কাগজের টাকার বদলে কয়েন দিয়ে বিল মেটানো, গ্যারেজে ঢোকানোর সময় গাড়ির সামনের দিক বাইরে রাখা – ইত্যাদি ব্যাপারগুলোর কারণে সে পুলিশে খবর দেয়। ক্লাইড এবং জোনস শহরে যায় খাবার এবং বনির জন্য ওষুধ ও ব্যান্ডেজ কিনতে। ওষুধের দোকানদারকে আগেই পুলিশ বলে রেখেছিল এমন কেউ এলে পুলিশে খবর দেয়ার জন্য। তাই করে লোকটা। রাত এগারোটায় থম্পসন সাবমেশিনগানে সজ্জিত একদল অফিসার নিয়ে স্থানীয় শেরিফ হোটেলে হানা দেয়। কিন্তু এবারও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ক্লাইডের দলবল। তবে তার ভাই বাক ব্যারোর মাথায় একটা বুলেট লাগে, গুরুতর আহত হয় সে। তাছাড়া ভাঙা কাচের আঘাতে বাকের স্ত্রীর চোখও দারুণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

(বনি এবং ক্লাইডকে গ্রেফতারের পক্ষে বিলিকৃত লিফলেট, ইলেকট্রিক চেয়ারের ছবি সহ)

পাঁচ দিন পর আইওয়ার এক পরিত্যক্ত অ্যামিউজমেন্ট পার্কে দেখা যায় তাদের। বাকের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে, এবং বনি ও ক্লাইড ঠিক করে যে তাকে এখানেই রেখে যেতে হবে। স্থানীয় লোকজনের চোখে ধরা পড়ে গেলে তারা পুলিশকে জানায়। পুলিশ এখানেও হামলা চালায়। বনি, ক্লাইড এবং জোনস পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তবে বাক ও তার স্ত্রী ধরা পড়ে। পাঁচ দিন পর হাসপাতালে মারা যায় বাক।

(পুলিশের হাতে আহত অবস্থায় ধরা পড়ার পর বাক ব্যারো)

পরবর্তী ছয় সপ্তাহ ধরে মিনেসোটা এবং মিসিসিপির বিভিন্ন অঞ্চলে পালিয়ে বেড়াতে থাকে জোনস, ক্লাইড এবং বনি। এই সময় ছোট ছোট ডাকাতি করে নিজেদের খরচ চালাতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে ইলিনয়ের এক অস্ত্রাগার লুট করে তিনটি ব্রাউনিং রাইফেল, হ্যান্ডগান এবং বেশ কিছু গোলাবারুদ সংগ্রহ করে ক্লাইড।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জোনস। ক্লাইড এবং বনি একা হয়ে পড়ে। ছোট ছোট ডাকাতির মাধ্যমে বনির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকে ক্লাইড। ১৯৩৩ এর নভেম্বরে একটুর জন্য পুলিশের হাতে ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে যায় দুজন, কিন্তু পুলিশের হাতে থাকা ব্রাউনিং রাইফেলের একটি বুলেটে তাদের দুজনের পা-ই আহত হয়। পরের সপ্তাহে বনি এবং ক্লাইডের বিরুদ্ধে ট্যারান্ট কাউন্টির ডেপুটি শেরিফ ম্যালকম ডেভিসকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো খুনী হিসেবে চিহ্নিত হয় বনি।

একাধিক বিবরণ থেকে জানা গেছে, ক্লাইড ব্যারোর এই অপরাধপ্রবণতার পেছনে দায়ী ছিল আমেরিকার কারাগার ব্যবস্থার উপর তার ক্রোধ। জেলে থাকতে যে অত্যাচার এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছিল সে, তার প্রতিশোধ নিতেই পরবর্তীতে আরও বড় বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার মূল ক্রোধ ছিল আইনের পোশাক পরিহিত লোকজনের প্রতি। ১৯৩৪ এর জানুয়ারিতে টেক্সাসের ইস্টহ্যাম জেলখানা থেকে রেমন্ড হ্যামিলটন, হেনরি মেথভিন এবং আরও কয়েকজন কয়েদীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে ক্লাইড। এর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত টেক্সাসের আইন ব্যবস্থার উপর এক চূড়ান্ত আঘাত হানতে সক্ষম হয় সে। একই সাথে সচকিত হয়ে ওঠে পুরো টেক্সাস এবং সেই সাথের আমেরিকার আইন বিভাগ, এবং বনি ও ক্লাইডকে ধরার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে তারা।

এবার এই কাজে টেক্সাসের আইন বিভাগ নিয়োগ করে প্রাক্তন টেক্সাস রেঞ্জার ক্যাপ্টেন ফ্র্যাংক হ্যামারকে। হ্যামার তখন অবসরে চলে গেছেন, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে তার খ্যাতি ছিল কিংবদন্তীতূল্য। বেশ কিছু বিপজ্জনক অপরাধীকে গ্রেফতার করেছিলেন তিনি, এবং তার হাতে নিহত হয়েছিল প্রায় ৫৭ জন অপরাধী। সারা শরীরে ১৭ জায়গায় আহত হওয়ার চিহ্ন ছিল তার। দীর্ঘদেহী, শক্তিশালী গড়নের হ্যামার তার একরোখা স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, এবং কোনো কিছু সঠিক বলে সিদ্ধান্ত নিলে এমনকি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশেও সেই কাজ করা থেকে পিছিয়ে আসতেন না।

তৃতীয় খণ্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *