প্রতিক্রিয়া

দারবিশঃ সংক্ষিপ্ত মহাকাব্য

সেক্স, ড্রাগস আর রক এন রোল!

নিষিদ্ধ তিনটে শব্দ, যেগুলো হয়ে উঠেছিল ষাট এবং সত্তরের দশকে পুঁজিবাদী আমেরিকার হতাশাগ্রস্থ তরুণ প্রজন্মের আশ্রয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহতায় পৃথিবী যখন টালমাটাল, তখন বাংলাদেশ থেকে অভিমানী এক তরুণ পাড়ি জমিয়েছিল আমেরিকায়। হারানো ভালবাসার দুঃখ ভুলতে যোগ দিয়েছিল সেই হিপ্পিদের সাথে, এক পৃথিবী লোভ লালসা আর হিংসার বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র হিসেবে তুলে নিয়েছিল স্রেফ আদর্শ আর ভালবাসাকে। সেখানেই তার জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো এল প্রেম, আগের চাইতেও অনেক বেশি তীব্রতা নিয়ে। কিন্তু ভালবাসার সাফল্য কি কেবল প্রাপ্তিতে?

সত্তর বছর বয়সে সেই তরুণ আবার ফিরে এল দেশে। ফিরে এল তার রেখে যাওয়া সেই রোমান্টিক ঢাকায়, যাকে সে নাম দিয়েছিল সিটি অফ মিউজিক। পরিচিত হলো এক তরুণীর সাথে, যার মানসিকতায় রয়েছে সেই সময়ের রক এন রোলের ছাপ, যে ভালবেসেছে জিমি হেনড্রিক্স, এলভিস প্রিসলি, বিটলস, জিম মরিসন, বব ডিলানের গান। মেয়েটা প্রেমে পড়ে যায় সত্তর বছর বয়সের সেই তরুণের, আর সমস্যাটা শুরু হয় তখনই…

এই বছরের বইমেলায় যে বইটি নিয়ে অনেক বেশি আগ্রহ কাজ করছিল তা হচ্ছে দারবিশ, প্রিয় গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী ভাইয়ের লেখা। কাহিনী সংক্ষেপ পড়ার পরেই মনে হয়েছিল যে এই বইটাই তো আমি এত দিন ধরে খুঁজছিলাম! আজ পড়ে শেষ করলাম বইটা। বলতে দ্বিধা নেই, গানের ক্ষেত্রে শিবলী ভাই যেভাবে লক্ষ লক্ষ তরুণের মন জয় করে নিয়েছিলেন, এই বইটিও একই ভাবে বিমুগ্ধ করে রাখবে পাঠককে। বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখক লিখেছেন, এই উপন্যাসের স্থান, কাল, ইতিহাস সবই সত্য, কাল্পনিক কেবল এর চরিত্রগুলো। সে জন্যই হয়তো এত ভাল লাগে বইটা পড়তে। চেনা ইতিহাসে অচেনা মানুষের মুখে লেখক গল্প বলে গেছেন, আমরা শুনে গেছি মুগ্ধ হয়ে। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে লেখকের নিজস্ব মতবাদ, চিন্তাভাবনা, দর্শন। বইয়ের শেষে উপলব্ধি করেছি, এই একই কথা আমিও ভেবে এসেছি আমার মতো করে। প্রতিটি মানুষই হয়তো তাই ভাবে, যে কারণেই গল্পটা শেষ পর্যন্ত কেবল রোদেলা, মেলিনি, জামশেদ, সঞ্জু কিংবা আলবার্টের থাকে না, হয়ে ওঠে সবার। শিবলী ভাইকে ধন্যবাদ এমন মোহজাগানিয়া একটা বই উপহার দেয়ার জন্য!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *