কবিতা

বারটেন্ডার

হিংসা, ঘৃণা, ক্রোধ—
এই পানীয়গুলোকে আমি সযত্নে বরাদ্দ রেখেছি
কিছু পুরুষের জন্য
যারা অবলীলায় জড়িয়ে নিতে পারে রমণীর হাত
তাদের কনুইয়ের ভাঁজে,
সুনীলের সুবর্ণ কঙ্কণপরা রমণীরা 
হাসতে হাসতে যাদের অঙ্কশায়িনী হয়।

সে সব পুরুষের ভালবাসার মোড়কে ঢাকা আবর্জনা
রমণীরা সযতনে ধারণ করে বুকে
তারা অহংকারী হয়, গর্বে আরও গর্বিত হয়
কারণ কোনো এক পুরুষসিংহ তাদের ফুলদানী বলেছে

সেই সব পুরুষের জন্য আমি
বরাদ্দ রাখি হিংসা, ঘৃণা ও ক্রোধ
কখনও কারও মুখোমুখি হয়ে গেলে
মাপতে বসি—ক’ছটাক ঘৃণার সাথে
ক’চিমটি হিংসা, কয় মুঠো ক্রোধ মিশিয়ে
ককটেল বানিয়ে তাকে পরিবেশন করব।

কিন্তু এসব ককটেল বানানো স্বভাবতই সময়সাপেক্ষ, যে কারণে
বানানো শেষ হতে হতে দেখি—
আমার অধৈর্য সুরাপ্রার্থী ফিরে গেছে তার নিজস্ব গুহাগৃহে
যেখানে তার অঙ্কশায়িনী হতে প্রস্তুত দ্বিতীয়, তৃতীয়, অথবা
হাজারতম কোনো লাস্যময়ী। 
কাক কখনও কাকের মাংস খায় না, এবং
বৃক্ষ কখনও নিজের ছায়ায় আশ্রয় পায় না
সৃষ্টির এই বিশদ নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল থাকা সত্ত্বেও—
অপ্রস্তুত বারটেন্ডার আমি তখন
নিজের বানানো ককটেল 
নিজের গলায় ঢেলে দেয়া ছাড়া কোনো পথ দেখি না।