কবিতা

রাত দুটো তেত্রিশ

রাত বাজছে দুটো তেত্রিশ,
সাত জন্মের পুরাতন পাপ শেষে আমি তোমাকে ভাবতে বসেছি, তাপসী
হাতে এখনও লেগে আছে শিকারের রক্ত,আদিম ঘ্রাণ
ভোর হয়ে এলে সব ধুয়ে মুছে লিখে দেব অবসান
মুখোশে ঢাকব মুখ; রাতের বয়স নেই আর বেশি
মুখোশে ডুব দেয়ার আগে তাই গল্পটা বলে যাই, তাপসী

এই প্রাচীন শহর প্রতি রাতে অরন্য হয়ে ওঠে
সে কথা তুমি কি দারুণ জানো,
আমি যার বুকে তীর ছুড়ে দিই বারবার
উন্মত্ত উল্লাসে যাকে ভেঙে চুরে করি চুরমার
সে তো তুমি, হে আমার প্রথম শিকার
শিকারীকে বধ করেছ কি নিপুণ ছলে
অভিশপ্ত নক্ষত্রের মতো সুতীব্র দৃষ্টি মেলে
তোমাকেই দেখে যেতে হয় তাই আমার
হে আমার চতুর শিকার

বহু দিন ধরে ভেবে গেছি, ফিরে যাব
সেই মোহার্ত মনোরম সময়কে খুঁজে নিয়ে
দুই হাতে মুছে দেবো চেতনার মুমূর্ষূ স্বর
এক ভুল একবারই যথেষ্ট ছিল,
কেন মায়া বেঁধেছিল দু’হাত আমার, নাগপাশ হয়ে
কেন তার আকৃতি এমন অজর
দিগন্ত চরাচর হরিণের ভয়ার্ত ডাকে
কেউ এনে দিতে পারেনি উত্তর

আমাকেও সেই ছায়া ঘিরে ঘিরে রাখে, প্রিয়তমা তাপসী আমার
জঙ্গলে ঘিরে রাখা দিঘীর মতন
শিকারের অভিশাপ বুকে বয়ে বেঁচে থাকি তাই
নিথর পানির বুকে ওঠে নিঠুর কাঁপন
রাত দুটো তেত্রিশ তাই তোমাকে খোঁজার সময়
একান্তে বসে বসে দুই চোখ নির্ঘুম রাখি
বিষমাখা তীর বুকে, মস্তিষ্কে বিপন্ন বিস্ময়
অন্ধকারে ডেকে যায় রাতচরা পাখি

আরও পড়ুনঃ

একমাত্র

মার্চের মধ্যরাত্রি