ছোট গল্প

ভালবাসা, প্রেম নয়

-মেয়ে, ভালবাসা বোঝ, প্রেম বোঝ না!

 

বেডে আধশোয়া হয়ে শুয়ে শুয়ে সাড়ে চার হাজার টাকায় কেনা সিম্ফনির এন্ড্রয়েড ফোনটার উপর তুমুল অত্যাচার চালাচ্ছিলাম। গেমের এই লেভেলটা পার করতে চেষ্টা করছি সেই বিকাল থেকে। পাশের বেডে মাহবুব ভাই একই ভঙ্গিতে শুয়ে শুয়ে মুঠোফোনে তার বান্ধবীর সাথে আলাপ চালাচ্ছিলেন। দৈনন্দিন রুটিন।

সন্ধ্যার পর থেকে দশটায় খাওয়ার আগ পর্যন্ত, এবং রাতে খাওয়ার পর রাত একটা-দেড়টা পর্যন্ত এভাবে সেলফোন কোম্পানীকে লাভবান করাটা মাহবুব ভাই তার দ্বিতীয় চাকরী হিসেবে নিয়েছেন। আমি বান্ধবীবিহীন অবিবাহিত যুবক, ইংরেজীতে যাকে বলে ব্যাচেলর। প্রথম প্রথম মাহবুব ভাইয়ের ফোনালাপে অনিচ্ছাসত্বেও কান চলে যেত। তবে এখন আর কোন ফিলিংস পাই না। মেস লাইফ যাপন করতে করতে রুচিবোধ প্রায় পুরোটাই হারিয়ে ফেললেও কান পেতে আরেকজনের ফোনালাপ শোনার মত কুরুচি এখনও আসেনি বলে মাঝে মাঝে নিজের মাঝে গর্ব অনুভব করতে চেষ্টা করি।

তবে মাহবুব ভাইয়ের এই কথাটা খটাস করে কানে বাজল। প্রেম বোঝ, ভালবাসা বোঝ না- এই কথার মানে কি? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলাম এবং আবিষ্কার করলাম যে প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে জানা নেই। তবে বাংলায় আমার নাম্বার ভাল ছিল বরাবর। সেই জ্ঞান খাটিয়ে একটা উত্তর দাঁড় করানো গেল। প্রেম করতে হয়, ভাত খাওয়া বা বাথরুমে যাওয়ার মত। ভাত এবং বাথরুম যেমন বিশেষ্য, প্রেমও একটা বিশেষ্য। ভাববাচক বিশেষ্য। আর ভালবাসা একটা ক্রিয়াপদ। যেমন প্রেমিকাকে ভালবাসতে হয়। আর কোন পার্থক্য মাথায় আসল না।

 

গেম খেলায় উৎসাহ পাচ্ছি না। প্রশ্নটার জবাব না পেলে আর কোন কাজে উৎসাহ পাব বলে মনে হচ্ছে না। মাহবুব ভাইয়ের কথায় কান লাগানোর চেষ্টা করলাম, যদি এ দিকের কথা শুনে জবাবটা পাওয়া যায়। কিন্তু ওদিকের পক্ষ মনে হচ্ছে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। মাহবুব ভাইকে ব্যখা করে কিছু বলতে শোনা গেল না। তার আলাপ এখন নিচু গলায়, হ্যা হু এবং মৃদু হাসির শব্দে সীমাবদ্ধ।

ফোনে কথা বলার সময় নানা রকম মিথ্যে কথা বলার মত মিথ্যে হাসি দেয়াটাও মানুষের অভ্যাস। কারও কথা শুনে হয়তো তার হাসি পাচ্ছে না, কিন্তু ওপাশের মানুষটাকে খুশি করার জন্য সে গলার মধ্য দিয়ে খুক খুক বা হাহ হাহ করে শব্দ করবে, যাতে মানুষটা ভাবে সে হাসছে। এদিকে তার মুখে হয়তো হাসির কোন চিহ্নই নেই। আবার উল্টোটাও যে ঘটে না তা না। কোন শব্দ না করে মৃদু হাসতেও দেখেছি। তবে তার সংখ্যা খুবই কম।

 

মাহবুব ভাই কান থেকে ফোন নামিয়েছেন। ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি ঝুলছে। আমি প্রশ্ন করার সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেললাম।

-ভাই।

-উউম?

-মাহবুব ভাই?

-আরে বল না।

-একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি?

-দুইটা কর। তোর জন্য একটা ফ্রি। তবে জবাব পাবি কিনা এখনই বলতে পারছি না।

-ওই যে একটা কথা বললেন তখন, প্রেম বোঝ ভালবাসা বোঝ না। এর মানে কি?

মাহবুব ভাই সোজা হয়ে বসলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি ফোনে কি বলি না বলি তার সব কি তুই কান খাড়া করে শুনিস?

-না ভাই। ওই কথাটা হঠাৎ করে কানে চলে আসল। খটকা লাগল তাই জিজ্ঞেস করলাম।

-কেন, খটকা লাগার কি আছে?

-প্রেম আর ভালবাসা দুটোর মধ্যে তো আমি কোন তফাত পাই না। অথচ আপনি এমন ভাবে বললেন যেন দুটো আলাদা জিনিস।

-হুম।

মাহবুব ভাই আবার বিছানায় হেলান দিয়ে আধশোয়া হলেন। চোখ দুটো বন্ধ হয়ে গেল। হাত দুটো মাথার নিচে। তার এই ভঙ্গি আমার পরিচিত। তিনি এখন দীর্ঘ লেকচার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

-শোন তাহলে। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ, সঠিকভাবে বলতে গেলে বেশিরভাগ বাঙালী প্রেম এবং ভালবাসার মাঝে কোন তফাত ধরতে পারে না। কিন্তু তার মানে এই না যে সত্যিই কোন তফাত নেই। এক কথায় যদি বলি, প্রেম হচ্ছে দেহের জিনিস। আর ভালবাসা মনের জিনিস। তবে দেহ বলতে যে শুধু জৈবিক চাহিদা তা নয়। সকল বস্তুগত ব্যাপারই এর মাঝে থাকতে পারে। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে যখন প্রেম করে তখন তাদের মাঝে বোঝাপড়াটা হয় সমান সমান। টাকা-পয়সা, রেস্টুরেন্টে খাবারের বিল, ফোনের খরচ- সবকিছু নিয়ে তারা একটা সম্পর্কে চলে আসে। তবে সম্পর্কটা হয় দেওয়া নেওয়ার। ছেলেটা হয়তো টাকাপয়সা খরচ করছে, কিন্তু মেয়েটার কাছ থেকে তার বদলে সে পাচ্ছে দৈহিক সুখ। মেয়েটা দেখছে সে ছেলেটাকে দৈহিক সুখ দিয়ে তার বদলে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা আদায় করে নিতে পারছে, ফলে সেও নিষেধ করছে না। দুজনের মধ্যে একটা ভাল বোঝাপড়া তৈরি হয়ে যায়। আধুনিক যুগে যাকে বলা হয় কর্পোরেট ভালবাসা। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য অনেক আগেই কবিতায় এই প্রেমের কথা বলে গিয়েছিলেন, দিবে আর নিবে মিলিবে মিলাবে।

-আর ভালবাসা?

-ভালবাসা আসলে একান্তই মানসিক ব্যাপার। একটা ছেলে যখন একটা মেয়ের জন্য সোজা কথায় পাগল হয়ে যায় সেটাই হচ্ছে ভালবাসা। একটা মানুষের জন্য আরেকটা মানুষের যে অর্থহীন অমানুষিক টান কাজ করে সেটাই হচ্ছে ভালবাসা। ভেবে দেখ, একটা মানুষ তো আসলে কিছুই না, রক্তে মাংসে তৈরি একটা যন্ত্র মাত্র। তার ভিতরে কেন এমন টান, মায়া কাজ করবে? ভালবাসার কথা স্বীকার করে নেয়ার পর কেন আরেকটা মানুষের জন্য সে নিজের সবকিছু তুচ্ছ করবে? কেন একটা মেয়ে চালচুলোহীন এক বেকার ছেলের হাত ধরে এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে? এই সব কেন’র উত্তর হচ্ছে একটাই, ভালবাসা। এটাকে আসলে মুখে বলে ব্যখা করে বোঝানো যাবে না। তোর কপাল যদি ভাল হয় তাহলে একদিন নিজেই বুঝতে পারবি ভালবাসা কি জিনিস। আর কপাল যদি খারাপ হয় তাহলে এতদিনে টের পেয়ে গেছিস।

 

মাহবুব ভাইয়ের বেশির ভাগ কথা আমার মাথার উপর দিয়ে গেল। তার মানে ভালবাসা কি জিনিস সেটা আমি এখনও বুঝতে পারিনি। মিতু এবং অর্পিতার কথা মনে পড়ল। ওদের কাউকে কি আমি ভালবাসতাম? মাহবুব ভাইয়ের কথার সাথে মিলিয়ে দেখলাম। ওদের কাউকে পাওয়ার জন্য আমার মধ্যে খুব একটা টান কাজ করেনি। সম্পর্কের শুরু থেকেই কেন জানি বুঝতে পেরেছিলাম এটা টিকবে না। তবে এতদিন ওদেরকেই আমি ভালবাসার মানুষ হিসেবে জেনে এসেছিলাম। বন্ধুদের মাঝে যারা প্রেম করে তাদের দেখাদেখি সবকিছুই করেছিলাম ভালবাসার নামে। হাত ধরে পার্কে ঘোরাঘুরি, রিকশায় বসে পুরো ঢাকায় টহল, ফুচকা-চটপটি, ফাস্টফুডের অন্ধকার কোনে বসে ডেটিং, বৃষ্টির সন্ধ্যায় বন্ধুর ফ্ল্যাট- কিছুই বাদ যায়নি।  মাহবুব ভাইয়ের কথা সত্যি হলে ওগুলো ভালবাসা ছিল না, প্রেম ছিল।

-দ্বিতীয় প্রশ্নটা করতে পারিস।

-কাউকে ভালবেসেছেন জীবনে?

মাহবুব ভাইয়ের মুখে রহস্যময় হাসি দেখা গেল। সে হাসির মানে হ্যা বা না দুটোই হতে পারে। তবে কোন জবাব পাওয়া গেল না। আমি আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বুঝলাম আজ আর এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে না।

 

পরদিন বিকেলে।

চুলে জেল এবং বগলতলায় বডিস্প্রে মেরে বের হচ্ছি। আজ তেরই ফেব্রুয়ারি। বাংলা ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন। বন্ধুদের সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি এবং বইমেলার আশেপাশে টইটই করে ঘুরব। মূল উদ্দেশ্য মেয়ে দেখা। সাইড উদ্দেশ্য সুবিধাজনক অবস্থানে, অর্থাৎ বিপরীত লিঙ্গের সাথে নেই এমন কোন মেয়ের সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করা। আমাদের মত কমবয়েসী ছেলেদের এসব কাজে অবশ্য মেয়েরা খুব কমই সাড়া দেয়। তবে অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে উৎসবের দিন গুলোতে তাদের মন নরম থাকে। যারা একলা একলা বা বয়ফ্রেন্ড ছাড়া থাকে তাদের তো কথাই নেই। আশেপাশে সব জুটিদের সেজেগুজে পাখির মত ফুরফুরে হয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখে তাদের মন আরও নরম হয়ে যায়। সে সময় তাদের প্রতি আগ্রহী কোন ছেলেকেই তারা ফিরিয়ে দিতে চায় না।

মালিবাগ থেকে ফাল্গুনে উঠলাম। যাব শাহবাগ। বাসে প্রচন্ড ভীড়। তার ভিতরেই কোন রকমে ঠেলাঠেলি করে ঢুকে পড়লাম। কয়েকজনের পায়ে পাড়া পড়ল। কেউ কিছু বলল না। বাসের ভিতর বেশিরভাগ মানুষের গায়ে রঙিন জামাকাপড়। ফাল্গুনের রঙ লেগেছে আর কি। কোনমতে ঠেলেঠুলে সামনের দিকের মহিলা সীটগুলোর পাশে একটা জায়গা দখল করে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। চ্যারিটি বিগিনস এট হোম। মেয়ে দেখা বিগিনস এট বাস।

 

শার্টের পকেট থেকে হেডফোনের জট পাকিয়ে যাওয়া তারটা টেনে বের করে জট ছাড়ানোর চেষ্টা করছি। হঠাৎ করে সেকেন্ড সীটের জানালার পাশে বসে থাকা মেয়েটার দিকে চোখ পড়ে গেল। মেয়েটা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না, কেবল মুখের বাম দিকে কিছু অবাধ্য চুলের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। কানে একটা ছোট্ট সোনার দুল। তার নিচে, ফর্সা গলার কাছে একটা তিল। প্রথম চোখ পড়ার এক মূহুর্তের মধ্যে এত কিছু খেয়াল করলাম। আমি তব্দা খেয়ে ভ্যাবদা মেরে হেডফোনের তার হাতে নিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা তিল কিভাবে এত সুন্দর হয়?

আমার কানের ভিতর কেমন একটা শব্দ হচ্ছে, মনে হচ্ছে একটা মশা ঢুকে পড়ে এক জায়গায় বসে এক নাগাড়ে পাখা দিয়ে পিন পিন শব্দ করে যাচ্ছে। বাসের মধ্যে এবং বাইরে রাস্তার তুমুল আওয়াজের কিছুই আমার কানে ঢুকছে না। আমি হা করে তাকিয়েই আছি। আমার মনে হচ্ছে ওই তিলটার দিকে তাকিয়ে আমি অনন্তকাল এই বাসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারব, সহযাত্রী লোকজনের একের পর এক ঠেলাধাক্কা কেয়ামত পর্যন্ত সহ্য করতে পারব।

কেয়ামত পর্যন্ত আমাকে অবশ্য অপেক্ষা করা লাগল না। যদিও রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম ছিল এবং বিশ মিনিটের রাস্তা শেষ হতে প্রায় এক ঘন্টা লেগে গেল, কিন্তু হেল্পারের ওই শাহবাগ নামেন ডাকটা শোনার পর মনে হল এত দ্রুত শাহবাগ পৌঁছে গেলাম কিভাবে? দ্বিতীয় বার অবাক হলাম যখন দেখলাম মেয়েটা উঠে দাঁড়াচ্ছে! তার মানে শাহবাগেই নামবে সে!

মনে হল প্রথমবারের মত আমি খেয়াল করলাম বাসে কি প্রচন্ড ভীড়। ঢাকা শহরের লোকাল বাসকে যেই লোক মুড়ির টিনের সাথে তুলনা করেছিল তার কল্পনাশক্তি প্রখর ছিল মানতেই হবে। ফাল্গুনকে লোকাল বাস বলা যায় না, তবে আজকে তার অবস্থা লোকাল বাসের চাইতেও খারাপ। এই ভীড় ঠেলে নামতে হবে মেয়েটাকে?

মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। মেয়েটা তার সীট থেকে বের হতেই আমিও ঘুরে দাঁড়ালাম, তারপর বুক চিতিয়ে দুই হাতের কনুইয়ের ধাক্কায় দুই পাশের লোকজন সরিয়ে সামনে এগোতে শুরু করলাম। হাউকাউ করে ওঠার চেষ্টা করল কয়েকজন, কিন্তু কারও কথায় কান দিচ্ছি না। খেয়াল রেখেছি মেয়েটা যেন ঠিক আমার পেছনেই থাকে। গেটের কাছে এসে কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ফেলেই দিতে হল। কিন্তু তাতে আমার আফসোস নেই। আমার পেছনেই বাস থেকে নামল মেয়েটা। নেমেই ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমি, এক পলকের জন্য চোখাচোখি হল আমাদের।

ব্যাস, জায়গায় আবার জমে গেলাম আমি। মেয়েটার বাঁকানো ভ্রূ আর কাজল দিয়ে আঁকা বিশাল দুই কাল চোখ আমার পা দুটোকে আমার অবাধ্য করে দিল। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতাম জানা নেই, হুঁশ হল যখন কোন এক রিকশাওয়ালার বিরক্ত হাত আমাকে ধাক্কা মেরে রাস্তার উপর থেকে সরিয়ে ফুটপাতে পাঠিয়ে দিল। দেখলাম, গরম চোখে তাকাতে তাকাতে চলে যাচ্ছে রিকশাওয়ালা।

তাড়াতাড়ি মেয়েটাকে খুঁজলাম। ওই তো! চলে যাচ্ছে রিকশায় উঠে। দৌড়ে আরেকটা রিকশায় উঠলাম। মেয়েটার রিকশার পেছন পেছন চালাতে বললাম রিকশাওয়ালাকে।

 

টিএসসিতে পৌছে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিল মেয়েটা। আমিও নামলাম। মন্ত্রমুগ্ধের মত মেয়েটাকে অনুসরণ করছি। হাঁটতে হাঁটতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে এসে পৌছালাম। প্রচন্ড ভীড়। মনে হচ্ছে ঢাকার সব মানুষ আজ এখানে এসে পড়েছে। এদিক ওদিক না তাকিয়ে চলতে গিয়ে হঠাৎ এক ঝালমুড়িওয়ালার ঝুড়িতে ধাক্কা লেগে গেল। সাথে সাথে প্রতিবাদ করে উঠল ঝালমুড়িওয়ালা। ওই মামা, দেইখা চলতে পারেন না?

মাফ টাফ চেয়ে তাকে শান্ত করলাম। তারপরেই চমকে উঠলাম। ভীড়ের ভেতর আমি হারিয়ে ফেলেছি মেয়েটাকে!

উদভ্রান্তের মত চারদিক চাইলাম। কোথাও তার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। নিজেকে হঠাৎ অসহায় মনে হল খুব। মাঝ সমূদ্রে পথ হারিয়ে ফেলা নাবিকের মত। অথবা শহরে এসে বাবা মা কে হারিয়ে ফেলা বাচ্চা ছেলের মত। বাংলা সিনেমায় দেখেছি নায়ক নায়িকাকে হারিয়ে ফেলে, এক ভাই আরেক ভাইকে হারিয়ে ফেলে। তারপর গানের মাধ্যমে তাদের মিলন হয়। আমিও এই ভীড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে গান গাইতে শুরু করব কিনা বুঝতে পারছি না। তাতে হয়তো কিছু টাকাপয়সা মিললেও মিলতে পারে। তবে মেয়েটার দেখা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

আচ্ছা, মেয়েটা এদিকে আসল কেন? ভাবার চেষ্টা করলাম আমি। নিশ্চয়ই উদ্যানে ঢুকবে, বা বইমেলায় যাবে। কি করব তাহলে? প্রথমে উদ্যানে খুঁজব, সিদ্ধান্ত নিলাম। তারপর শার্টের হাতা গুটিয়ে নেমে পড়লাম উদ্যানে প্রবেশের যুদ্ধে।

দশ মিনিট সংগ্রাম করার পর আমি যখন উদ্যানে প্রবেশ করলাম তখন নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হল। দশ মিনিট তো দূরের কথা, অনেকে এই ভীড়ে আধা ঘন্টা ধরে যুদ্ধ করেও জয়ী হতে পারেনা, জানা আছে আমার। কিন্তু এখন দশ মিনিট সময়ও আমার কাছে অনেক। মেয়েটাকে খুঁজে বের করতেই হবে।

 

ভাগ্য এবার দারুণ সাহায্য করল আমাকে। গেটের পাশে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি, হঠাৎ করে ডান দিকের একটা চটপটির দোকানের সামনে দেখতে পেলাম তাকে! আরও কয়েক জন ছেলে মেয়ের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। কোন দিকে না তাকিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম আমি।

মেয়েটার কাছ থেকে পাঁচ ছয় হাত দূরে দাঁড়িয়ে হা করে তাকিয়ে আছি। মেয়েটা আমাকে খেয়াল করেনি এখনও, বান্ধবীদের সাথে কি যেন কথা বলতে বলতে হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ছে। হাসলে মেয়েটার একটা গজদাঁত দেখা যায়। মনে হল আরেকবার ওই বাঁকা দাঁতটা দেখার জন্য আরও কয়েকশ বার আমি উদ্যানের গেটের এই হুড়োহুড়ি সহ্য করতে পারি।

কিছুক্ষণ পর মেয়েটার একটা বান্ধবী সম্ভবত আমাকে খেয়াল করল। মেয়েটার কানে কানে কিছু একটা বলল সে। মেয়েটা ঘুরে আমার দিকে তাকাল, তারপর ফিসফিস করে বান্ধবীকে কি যেন বলে আমার দিকে এগিয়ে আসল। আমি মনে মনে কিছু একটা অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করলাম। স্মার্ট কোন কথা সাজানোর চেষ্টা করলাম। আর ঠিক সেই মূহুর্তে আমার মস্তিস্কের মেয়ে-পটানোয় পারদর্শী অংশটা আমার সাথে বেইমানী করে সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলাম মেয়েটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঠোঁট নড়ছে তার। কিন্তু তার চোখের দিকে তাকানোর সাথে সাথে আমি সম্পুর্ণ বধির হয়ে গেলাম।

-এই যে, হ্যালো? মেয়েটা আমার মুখের সামনে হাত নাড়ছে। সেই বাস থেকে দেখছি আমাকে ফলো করছেন। কি সমস্যা আপনার?

মরিয়া হয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করলাম আমি। আমার ঠোঁটগুলো নড়ে উঠলেও গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হল না।

-জ্বি?

-ভ-ভালবাসা! আমার মুখ থেকে অনেক চেষ্টার পর এই একটা শব্দই বের হল শুধু।

অন্ধকার সমুদ্রের মত নিকশ চোখদুটো দিয়ে আমাকে নীরবে মাপল মেয়েটা, সুন্দর ভ্রূ দুটো কুঁচকে গেছে। ঘুরে দাঁড়িয়ে বান্ধবীদের দিকে তাকাল সে, তারপর সবাইকে নিয়ে হন হন করে আমার সামনে থেকে সরে গেল। আমি জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম স্থানুর মত।

পরবর্তী তিনটে ঘন্টা পুরো উদ্যান আর বইমেলা আমি চষে ফেললাম মেয়েটার খোঁজে। কিন্তু এত মানুষের ভীড়ে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে মেয়েটা! অগত্যা ব্যর্থ হয়ে ফিরে চললাম মেসে। বন্ধুরা ফোন দিল কয়েকবার, কিন্তু রিসিভ করার ইচ্ছে হল না। ফেরার সময় মাহবুব ভাইয়ের কথাটাই মনে হচ্ছিল বার বার, আমার কপালটা আজ থেকে খারাপ হয়ে গেল!

 

সেদিন রাতে মেসে ফিরে আমি আবিষ্কার করলাম আমার ক্ষিদে নেই। শুধু ক্ষিদে নয়, সবরকমের বাহ্য জ্ঞানই যেন লুপ্ত হয়েছে আমার মাঝ থেকে। কারও সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, কারও কথা শুনতে ইচ্ছে করছে না। সোজা নিজের রুমে ঢুকে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। চোখ দুটো বন্ধ করতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল মেয়েটার মুখ। সাথে সাথে চোখ খুলে ফেললাম। একদিনের জন্য যথেষ্ট যন্ত্রণা সহ্য করেছি। মেয়েটার জন্য আজ আমার সব প্ল্যান প্রোগ্রাম ভন্ডুল হয়ে গেল!

অথচ এমন ছেলে নই আমি। কোন মেয়েকে চোখ বন্ধ করে কল্পনায় দেখব এমন আমার কখনও হয়নি। কখনও যদি হয়েও থাকে, তবে তা কোন মেয়ের মুখ নয়, শরীরের অন্য কোন প্রত্যঙ্গ ভাসত চোখের সামনে। মেয়েটা কিভাবে আমার ভেতরের সব কিছু এভাবে ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিল?

মাহবুব ভাই ফিরলেন দশটার দিকে। গুন গুন করে গান গাইছেন। আমার দিকে তাকাতেই অবশ্য গানটা থেমে গেল।

-কি রে, কি হয়েছে তোর? প্রশ্ন করলেন ভাই।

-কিছু না।

-কিছু না তো এইরকম লেটকি মেরে পড়ে আছিস কেন? ভাত খেয়েছিস?

-হুউম। মিথ্যে বললাম আমি।

আমাদের রুমে তিনবেলা দুইজনের খাবার দিয়ে যাওয়া হয়। মাহবুব ভাই দরজার পাশে রাখা খাবারের প্লেটগুলো তুলে দেখলেন। তারপর বললেন, মিথ্যা কথা বললি কেন? এই যে তোর খাবার?

আমি জবাব দিলাম না। মাহবুব ভাইও কি মনে করে আর কোন প্রশ্ন করলেন না।

 

পহেলা ফাল্গুনের পরের দিন আসে ভালবাসা দিবস। বাঙালী জাতিকে আমার মাঝে মাঝে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয় শুধু এই দিনদুটোর কারণে। সেই সাথে নিজেকেও। সত্যিই তো, বাংলাদেশে না জন্মে অন্য কোথাও জন্মালে পরপর এই দুটো দিনের মজাটা নিতাম কিভাবে? তবে এবার কোন কিছুতেই উৎসাহ পাচ্ছি না। মাহবুব ভাই যখন পরদিন বিকেলে তার সাথে বের হওয়ার প্রস্তাব দিলেন তখনও কোন আগ্রহ বোধ করলাম না। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে এইসব বিশেষ দিনগুলোতে ভাইয়ের সাথে বের হওয়া মানে শুধু তার ডেটিং এর সাক্ষী হওয়া। তিনি বসে বসে গার্লফ্রেন্ডের সাথে গল্প করবেন, ফুচকা খাবেন, আমাকে দূর থেকে তাকিয়ে দেখতে হবে। তাদের পিছন পিছন দশ হাত দূরত্ব বজায় রেখে মাথা নিচু করে হাঁটতে হবে এবং আপুর পা ব্যথা হয়ে গেলে তারা যখন রিকশায় উঠবেন তখন তাদের সালাম দিয়ে বিদায় জানিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হবে। গত পহেলা বৈশাখে এই ঘটনা ঘটার পর আমি সোজা হয়ে গেছি। বলা যায় শিক্ষা হয়ে গেছে আমার।

তবে ন্যাড়া যে আবার বেলতলায় যাবে এতে আমার কিছু করার থাকতে পারে না। তাই পরদিন বিকেলে যখন মাহবুব ভাই আমাকে বিছানা থেকে টেনে তুলে ফেললেন এবং রেডি হতে বললেন তখন আর কিছু করার না থাকায় একটা ময়লা জিন্স আর আধময়লা টিশার্ট পরে তার পিছু নিলাম। মেস থেকে বেরিয়ে মাহবুব ভাই রিকশা নিলেন, রিকশা এসে থামল বেইলি রোডে। পৃথিবীর যত রূপসী ললনা আছে তারা যেন আজ কেউ ঘরে থাকবে না বলে পন করেছে। তাই বলে সবাইকে কেন বেইলি রোডেই আসতে হবে? বেজার মুখে ভাবতে লাগলাম আমি।

-মুখটা এমন বানিয়ে রেখেছিস যেন তিন দিন তোর পেট ক্লিয়ার হয়নি, এই মূহুর্তে প্রকৃতি একের পর এক মিসকল দিয়ে যাচ্ছে। মাহবুব ভাই রিকশা থেকে নেমে মানিব্যাগ বের করতে করতে বললেন। তারপর বললেন, তোর কাছে ভাংতি ত্রিশ টাকা হবে? আমার কাছে সব এক হাজার টাকার নোট!

বেজার মুখটাকে আরও একটু বেজার বানিয়ে পকেট থেকে টাকাটা বের করে দিলাম। মাহবুব ভাই বললেন, মেসে গিয়ে মনে করিয়ে দিস। দিয়ে দেব। আমি মনে মনে বললাম মনে করিয়ে দিলেই যদি টাকা ফেরত পাওয়া যেত তাহলে আপনার কাছে সাড়ে সাতশ টাকা আটকে থাকত না এতদিন।

 

মাহবুব ভাই আমাকে নিয়ে কে এফ সি তে ঢুকলেন। উনি আবার বেশ সৌখিন মানুষ, আর আপু আরও বেশি সৌখিন। দামি জায়গা না হলে তাদের ডেটিং হয় না। আমি অবশ্য কখনও বুঝতে পারিনি এসব জায়গায় ডেটিং করার স্বার্থকতা কি। তারপর গতকাল মাহবুব ভাইয়ের কথাগুলো মনে পড়ল। তাহলে কি মাহবুব ভাই আপুর সাথে প্রেম করছেন?

-ভাই, আপুর সাথে আপনার সম্পর্কটা কি প্রেম না ভালবাসা? পুট করে জিজ্ঞেস করলাম আমি।

মাহবুব ভাই আমার দিকে চোখ সরু করে তাকালেন। বেশি বুঝে গেছিস, তাই না? চিবিয়ে চিবিয়ে জিজ্ঞেস করলেন তিনি। চুপ থাক, নাহয় থাবড়া খাবি। আমি চুপ মেরে গেলাম। নাহলে কে এফ সি এর চিকেনটা মিস হয়ে যেতে পারে।

ভেতরে তিল ধারনের জায়গা নেই। একেবারে কানায় কানায় পূর্ণ যাকে বলে। এক পাশে এক টেবিলে আপু বসে আছেন। তার সামনে আরেকটা মেয়ে বসে, আমাদের দিকে পেছন ফিরে থাকায় মুখ দেখা যাচ্ছে না। আমরা দুজন এগিয়ে গেলাম। এবং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আপুর সামনে বসে থাকা মেয়েটার দিকে তাকাতেই আমার উপর বজ্রপাত হল, চলিত বাংলায় যাকে বলে ঠাডা পড়ল। এতদিন এসব ঘটনা কেবল গল্প উপন্যাসেই ঘটে শুনেছি। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার দেখা যাচ্ছে বাস্তবেও ঘটে!

আমি বজ্রাহত মানুষের মতই দাঁড়িয়ে রইলাম। ওদিকে মাহবুব ভাই আপুর পাশের চেয়ারটা টেনে বসে পড়েছেন। আমাকে বললেন, কি রে, খাম্বার মত দাঁড়িয়ে আছিস ক্যান? বসে পড়।

আমি বসলাম। এবং বসার পরেই আমার মনে হল আমি এভাবে গুটিয়ে আছি কেন? একজন পুরুষ মানুষকে কি এসব মানায়? এই মেয়েকে আমার পৌরুষের সাহায্যে ঘায়েল করতে হবে। দেখাতে হবে যে গতকাল আমাকে সে যদিওবা ল্যাবেন্ডিস ভেবে থাকে, আমি একেবারেই তা নই।

আমি খুব স্মার্টলি মেয়েটার দিকে ঘুরলাম, এবং হাত নেড়ে বললাম, হাই! টেবিলের উপর থাকা টিস্যুর প্লেটটা আমার হাতে ধাক্কা লেগে মেয়েটার কোলের উপর পড়ে গেল সাথে সাথে। মেয়েটা এখন পর্যন্ত আমার দিকে একবারও তাকায়নি, তার স্মার্টফোনে ফেসবুক ব্রাউজ করছিল। হাই বলার সাথে সাথে মেয়েটা আমার দিকে তাকাল এবং এমন ভাবে লাফিয়ে উঠল যেন টিস্যু নয়, তার কোলে আমি এক প্লেট জ্যান্ত তেলাপোকা ছেড়ে দিয়েছি।

আমি আবার শামুকের মত নিজের খোলসে গুটিয়ে গেলাম। মাহবুব ভাইয়ের ঝাড়ির পুরোটা গেল আমার মাথার উপর দিয়ে। মাঝে মাঝে আমি তার দিকে এমন মুখ করে তাকালাম যেন তিনি আমার সাথে মান্দারিন বা মঙ্গোলিয়ান ভাষায় কথা বলছেন। সেই মুখ দেখেই সম্ভবত ভাইয়ের মায়া হল।

-শোন, নীলা। ও আসলে বুঝতে পারেনি মনে হয়, গতকাল থেকে দেখছি ওর মুড অফ। তুমি কিছু মনে কোরো না।

আহ, শান্তি! মেয়েটার নাম জানা গেল তাহলে! তিনজনের আলাপ থেকে বুঝতে পারলাম মেয়েটা আপুর কাজিন। যাক ভালই হল। মেয়েটার পরিচয়ও জানা গেল। আর তাকে হারিয়ে ফেলার ভয় থাকল না। মেয়েটা আমাকে চিনতে পেরেছে, তবে কিছু বলল না কেন জানি। আমিও হঠাৎ করে ভাল হয়ে যাওয়া ভাগ্যটাকে আর বেশি না ঘাটিয়ে চুপ করে থাকাটাই সঙ্গত মনে করলাম।

 

ঘন্টাখানেক পর আমরা বের হয়ে আসলাম। ভাইয়া এবং আপু এখন ঘুরতে যাবেন। আপু নীলার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুই তাহলে বাড়ি চলে যা, না কি? যেতে পারবি তো একলা একলা? নাকি দীপু পৌঁছে দিয়ে আসবে?

মেয়েটা অপরিসীম বিতৃষ্ণা নিয়ে আমার দিকে তাকাল। রাস্তার পাশে স্তুপ হয়ে থাকা ময়লার ডিপোর দিকে মানুষ সম্ভবত এভাবেই তাকায়। তারপর বলল, ঠিক আছে।

 

 

৩ বছর পরঃ

বেশিরভাগ গল্প যেভাবে শেষ হয় এই গল্পটাতেও তেমন একটা হ্যাপি এন্ডিং আসার কথা ছিল। আমার আর নীলার গল্পটাও সেইদিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু যে ভাগ্য আমাকে বার বার নীলার মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছিল তার মতিগতি বোঝা সত্যিই মুশকিল।

দুই বছর ধরে মেয়েটাকে বুক উজাড় করে ভালবেসেছিলাম। মহানগরীর বুকে বিচরণকারী অগুনতি প্রেমিকের মত আমিও কিছু ছোট ছোট কিন্তু বিশুদ্ধ স্বপ্নের জাল বুনেছিলাম মেয়েটাকে ঘিরে। আমার উড়নচন্ডী জীবনটাকে এক ঝটকায় মেয়েটা গুছিয়ে দিয়েছিল, নিস্তরঙ্গ ভালবাসাময় একটা পৃথিবী তৈরি করার স্বপ্ন দেখেছিলাম আমি তাকে ঘিরে। কিন্তু স্বপ্ন যদি বাস্তবেই পরিনত হল তাহলে তো সবকিছু ছকে ছকে মিলে গেল। ভাগ্য এবং প্রকৃতি খুব কম সময়েই তা হতে দেয়, খুব কম সংখ্যক মানুষ নিজেদের ভালবাসার মানুষকে আপন করে পায়। আমি তাদের একজন হতে পারিনি।

আমার চেষ্টার কোন কমতি ছিল না। নীলা যখন আমাকে এক বছর আগে আমার রাস্তা থেকে তার পথটুকু আলাদা করে নেয় তখন তাকে ধরে রাখার কম চেষ্টা করিনি আমি। কিন্তু ঠিক যেভাবে না চাইতেই আমি নীলাকে খুঁজে পেয়েছিলাম, ঠিক সেভাবে না চাইলেও মেয়েটা হারিয়ে গেল। এই ইট-পাথরের জঙ্গলেরই অন্য কোন এক পৃথিবীতে এখন তার বসবাস। সেখানে আমার প্রবেশাধিকার নেই।

 

 

এখন আমি মাহবুব ভাইয়ের কথার অর্থ বুঝি। সত্যিই আমার কপালটা খারাপ ছিল…

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *