ছোট গল্প

সহী সেলামি বিতরণ তরিকা

এসে গেছে আরেকটি ঈদুল ফিতর। ঈদে সেলামি প্রদান যেমন মুরব্বীদের জন্য গর্বের ব্যাপার, তেমনি কোমলমতি যুবক সম্প্রদায় (আমি) এর জন্যও আনন্দের উৎস। কিন্তু এই আধুনিক জমানায় অনেক মুরব্বীই বুঝে উঠতে পারেন না কি করে সেলামি দেবেন, এত এত আধুনিক উপায়ের মধ্যে কোনটি সঠিক ও মানসম্মত হবে। বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ কেড়ে নিয়েছে আবেগ। কিন্তু বাঙালী আবেগী জাতি, তারা সেই বায়ান্নতে, একাত্তরে রক্ত দিয়েছে, আরও দেবে দরকার হলে… দুঃখিত, বেলাইনে চলে যাচ্ছি। তো চলুন জেনে নিই কি করে সহীহ শুদ্ধ উপায়ে আমাকে সেলামি পাঠাবেন।

প্রথম ধাপঃ

প্রথমেই চলে যান আপনার সবচেয়ে কাছের “বিকাশ” চিহ্নিত দোকানে। চিনতে না পারলে এলাকার চ্যাংড়া পোলাপানের সাহায্য নিন। বিকাশ না পেলে “রকেট” সার্ভিসেরও সাহায্য নিতে পারেন।

দ্বিতীয় ধাপঃ

এবার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের এবং দোকানের “বিকাশ” চিহ্নিত সাইনবোর্ড সম্বলিত একটি সেলফি তুলুন ও আমাকে পাঠিয়ে দিন।

তৃতীয় ধাপঃ

আপনি বিকাশের দোকানে হাজির হয়েছেন বুঝতে পারলেই আমি আপনাকে আমার বিকাশ নাম্বারটি জানিয়ে দিব। আর যদি নিজস্ব একাউন্ট থেকে পাঠাতে চান তাহলে তো আরও ভাল। সেক্ষেত্রে কেবল নিজের একটি ছবি আমাকে ইনবক্স করলেই হবে।

চতুর্থ ধাপঃ

এবার আমার পাঠানো নাম্বারে সেলামির টাকাটি বিকাশ বা রকেট করে দিন। অনুগ্রহ পূর্বক কত টাকা পাঠাচ্ছেন এবং কোন নাম্বার থেকে পাঠাচ্ছেন তা আগেই জানিয়ে দেবেন।

পঞ্চম ধাপঃ

প্রাপ্তি নিশ্চিত হলেই আমি আপনাকে ফোনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করব, এবং আপনার পাঠানো ছবিতে সালাম করব। যার মাধ্যমে সহীহ পদ্ধতিতে সেলামি পাঠানোর ধাপগুলো সমাপ্ত হবে।

বিঃ দ্রঃ ইহা সম্পূর্ণ পরীক্ষিত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সেলামি পাঠানোর উপায়। এখানে কোন ভেজাল নাই, সুতরাং যে কেউ নির্দ্বিধায় এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। তবে পাঁচশ টাকার নিচে সেলামি পাঠানোর চেষ্টা করলে দোকানদার আপনার দিকে বিদ্রুপাত্মক হাসি দিতে পারে, এই মর্মে আগেই সাবধান করে দিচ্ছি। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঘোষণাটি শেষ করছি। হ্যাপি সেলামি গিভিং!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *