ছোট গল্প

অনুবাদ থ্রিলার গল্পঃ সন্দেহ

বারান্দার রেলিঙে দুই হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিল নোলান। নিজের অজান্তেই কাঠের উপর চেপে বসল আঙুলগুলো, ব্যথা করে উঠল পেশিতে। নিচের দিকে চলে গেল তার চোখ – সুন্দর করে ছাটা লন, তার ওপাশে পাম আর অস্ট্রেলিয়ান পাইন গাছের সারি, আরও দূরে সৈকত – সকালের সূর্যের আলোতে ঝিলিক দিচ্ছে বালি।

সমুদ্র আজ শান্ত, নীল। পুরুষ আর নারীর গলার আওয়াজ ভেসে আসছে সেখান থেকে। নোলানের স্ত্রী, হেলেন, আর নিউ ইয়র্কের ওই ম্যাগাজিনটা থেকে আসা ফটোগ্রাফার, জ্যাক ল্যাটিমার। দ্বীপের উপর একটা ফটো ফিচার লিখতে এসেছে এখানে।

চোখ সরিয়ে নিল নোলান। হাতের তালুর দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত। ঘামে ভিজে গেছে তার পাতলা কটনের শার্টটা।

কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না সে। বারান্দা থেকে বের হয়ে সুপ্রশস্ত লিভিং রুমে চলে এলো এবার। পায়চারি করল কয়েক মুহূর্ত, তারপর ঘরের মধ্যিখানে থমকে দাঁড়িয়ে নিজেকে শান্ত করতে চাইল। দু’সপ্তাহ ধরে চলে আসছে ব্যাপারটা। প্রথমে ভেবেছিল নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে, ব্যাপারটা অসম্ভব।

কিছু একটা করতে হবে তাকে। দ্রুত পায়ে এবার নিজের স্টাডিতে চলে এল নোলান, তারপর ডেস্কের প্রথম ড্রয়ারটা খুলে দেখল পয়েন্ট ফোর ফাইভ অটোমেটিক পিস্তলটা। আবার দড়াম করে ড্রয়ার বন্ধ করল, ফিরে এল লিভিং রুমে।

কোন দুঃখে যে লোকটাকে দ্বীপে ঢোকার অনুমতি দিয়েছিল সে!

কারণটা অবশ্য ভাল করেই জানা আছে তার। হেলেন চেয়েছিল, তাই। এখন আর ল্যাটিমারকে তাড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই, কারণ তাতে হেলেনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এমন করছে কেন হেলেন? সে কি জানে না, নোলান কত ভালবাসে তাকে? কেন এভাবে তাকে কষ্ট দিচ্ছে সে? এত বছর পর এটুকু তো অন্তত হেলেনের বোঝা উচিত যে তার দিকে অন্য কোনো পুরুষ তাকালেও সহ্য করতে পারে না নোলান?

সভ্য জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখানে এই দ্বীপে ওরা কেন বাস করে, হেলেন বোঝে না সেটা?

শক্ত হয়ে গেল নোলানের শরীর। পকেট থেকে রুমাল বের করে কপাল আর হাত থেকে ঘাম মুছল। বাইরে থেকে ওদের গলার আওয়াজ ভেসে আসছে। ফিরে আসছে ওরা।

দ্রুত একটা ম্যাগাজিন তুলে নিয়ে বেতের চেয়ারটায় বসে পড়ল সে, ভান করল যেন একটা গল্প পড়তে ব্যস্ত।

ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে ওদের পায়ের আওয়াজ। মনে হচ্ছে যেন কেউ হাতুড়ি পিটছে নোলানের কানের পর্দায়। রুদ্ধ আক্রোশে চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছা হলো তার।

‘ডার্লিং!’ ডাক দিল হেলেন। ‘কোথায় তুমি – এইতো!’

নোলানের দিকে এগিয়ে এল সে। মুখ তুলে তাকাল নোলান। খুশি আর উচ্ছাসে চকচক করছে হেলেনের চোখজোড়া, যেটা অনেক দিন দেখা যায়নি। পরনে লাল, হলুদ আর সবুজ রঙের স্যুইমস্যুট, নিজেই নিজের জন্য বানিয়েছে হেলেন।

হঠাৎ করেই যেন নোলান খেয়াল করল, স্যুটটা খুব বেশি ছোট। কান গরম হয়ে উঠল তার। সে নিজেই হেলেনকে বলেছিল ছোট করে বানাতে। ওকে দেখতে যে ভালবাসে সে!

কিন্তু তাই বলে – ল্যাটিমারও দেখবে ওকে?

‘কি করছিলে?’ জানতে চাইল হেলেন।

কিছু একটা বলতে শুরু করল নোলান। কিন্তু তার আগেই আবার বলতে শুরু করল হেলেন, ‘আমাদের সাথে তুমিও সাঁতার কাটতে গেলে না কেন? আজ সকালটা এত সুন্দর!’ হাত বাড়িয়ে নোলানের চুলগুলো এলোমেলো করে দিল সে। ‘অনেক দিন হয়ে গেল পানির ধারে কাছেও যাওনি তুমি।’

গলা পরিষ্কার করল নোলান। দরজায় দাঁড়ানো ল্যাটিমারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এই যে, মিস্টার ল্যাটিমার। কেমন লাগছে? আপনার গল্প কতদূর?’

চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছা হচ্ছে নোলানেরঃ ‘তুই দূর হবি কবে!’ কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। তাই চুপচাপ বসেই রইল সে। সূর্যের আলোতে রোদেপোড়া একটা ভাব এসেছে ল্যাটিমারের চেহারায়, ভাল লাগছে দেখতে। প্রথম যখন এসেছিল, তখন ফ্যাকাসে একটা ভাব ছিল চেহারায়, দূর হয়ে গেছে সেটা।

‘আর কিছু দিন লাগবে,’ বলল ল্যাটিমার। ‘আর আমাকে জ্যাক বলে ডাকতে পারেন। আপনাদের দুজনের কিছু ছবি নিতে পারলে আরও ভাল লাগত, বুঝলেন? আপনাদের বাড়ি, এই দ্বীপ – সব কিছুরই ছবি তুলেছি, শুধু-’ কথা শেষ না করে চুপ হয়ে গেল সে।

স্ত্রীর দিকে তাকাল নোলান। হাত বাড়িয়ে তার বাহু স্পর্শ করল হেলেন। কাপছে তার আঙুলগুলো। ‘লাঞ্চের পর আমি আর জ্যাক একটু হাঁটতে বের হচ্ছি,’ বলল সে। ‘জানোই তো, কত দিন দ্বীপের চারপাশটায় হাঁটি না! তুমিও চলো না?’

‘না,’ দ্রুত জবাব দিল নোলান। ‘কিছু কাজ আছে আমার।’

‘আপনি গেলে খুব ভাল হত,’ বলল ল্যাটিমার।

কিছু বলল না নোলান।

‘একটা চিঠি লিখতে হবে আমাকে,’ বলল ল্যাটিমার। ‘হেলেনের লাঞ্চ বানানো শেষ হতে হতে লিখে ফেলি গিয়ে।’

‘হ্যাঁ,’ বলল হেলেন। ঘুরে দাঁড়িয়ে কিচেনের দিকে চলে গেল সে, গুনগুন করছে মৃদু সুরে।

‘ও হ্যাঁ,’ নোলানের দিকে তাকিয়ে বলল ল্যাটিমার। ‘শহরে কোনো কাজ আছে নাকি আপনার? আজ বিকেলে নৌকাটা নিয়ে যাচ্ছি আমি, আপনার কোনো চিঠি থাকলে আমাকে দিতে পারেন – পোস্ট করে দেবো।’

‘ধন্যবাদ,’ বলল নোলান। ‘লাগবে না।’

‘ঠিক আছে,’ বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ল্যাটিমার, তারপর চলে গেল তার বেডরুমের দিকে। ঘরটা আগে স্টোরেজ রুম ছিল, তবে হেলেন যখন বলল যে ফটোগ্রাফার কয়েকটা দিন থাকবে এখানে, তখন একটা বিছানার ব্যবস্থা করেছে নোলান। সেই সাথে ল্যাটিমারের টাইপরাইটারের জন্য একটা টেবিল।

‘আজ আমাদের সাথে হাঁটতে যাচ্ছেন না তাহলে?’ বের হওয়ার মুখে থমকে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল ল্যাটিমার।

জবাব দেয়ার প্রয়োজন বোধ করল না নোলান। কোনো কথাই বলতে চাইছে না সে এই মুহূর্তে, কারণ ভয় হচ্ছে যে মুখ খুললে চিৎকার করে উঠবে, গালি দিয়ে বসবে – এমনকি ঝাঁপিয়েও পড়তে পারে লোকটার উপর।

না, হাতাহাতির ভেতরে নেই সে। তার চাইতে পিস্তলটা ব্যবহার করাই ভাল। ঘর থেকে বের হয়ে গেল ল্যাটিমার। বসেই রইল নোলান, আঙুলগুলো খামচে ধরেছে ম্যাগাজিনের পাতা।

হ্যাঁ, এটাই করতে হবে তাকে। আরও কিছু দিন থাকতে চায় ল্যাটিমার, তাই না? কেন, সেটা ভাল করেই জানা আছে নোলানের। তার আতিথেয়তার অন্যায় সুযোগ নিচ্ছে শয়তানটা। হেলেন কি বুঝতে পারছে না, ল্যাটিমার কেমন লোক? ও কি অন্ধ? নাকি হেলেনের নিজেরও সায় আছে এতে?

চিন্তাটা মাথায় আসতে অজান্তেই চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেল নোলান। বাড়ির অন্য পাশ থেকে ল্যাটিমারের টাইপরাইটারের খটাখট শব্দ ভেসে আসছে – শুনতে পাচ্ছে সে।

তাদের একান্ত নিজস্ব স্বর্গ। তাদের ঘর। তাদের ভালবাসা। ওই একটা লোক এসে সব ভেঙে দিয়ে যাবে? লাঞ্চের জন্য ডাকছে হেলেন, শুনতে পেল নোলান। সে দিকে এগিয়ে যেতে যেতে একটু স্বস্তি পেল মনে এই ভেবে যে আজকের পর আর কোনো ঝামেলা থাকবে না। সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে সে।

ল্যাটিমার নিজের অজান্তেই কাজ সহজ করে দিয়েছে তার জন্য। সব ঠিক করে নিয়েছে নোলান। টেবিলে বসে খাবার নাড়াচাড়া করতে লাগল আনমনে, বাকি দুজনের হাসি আর কথার শব্দ শুনছে।

‘সালাদটা খুব ভাল হয়েছে,’ বলল ল্যাটিমার। ‘অসাধারণ, হেলেন!’

মুখ নামিয়ে নিল হেলেন। স্থির চোখে ল্যাটিমারের দিকে তাকিয়ে রইল নোলান। লাল হয়ে উঠল ল্যাটিমারের মুখ, চোখ সরিয়ে নিল সে। মনে মনে হাসল নোলান। ধরা পড়ে গেছ, বাছাধন! কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না আনন্দটা। পুরো বিকেলটা হেলেনের সাথে কাটাবে ল্যাটিমার, ভাবতেই তেঁতো হয়ে উঠল মন।

নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করল সবাই। একটু পরেই বাড়িটা আবার নির্জন হয়ে গেল। দুজনের হাসির শব্দ শুনতে পেল নোলান, ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে দূরে।

 

নিজেকে কিছুতেই স্থির রাখতে পারছে না নোলান, পায়চারি করছে বারবার। আজ রাতেই করতে হবে যা করার, না হলে হয়তো অনেক দেরী হয়ে যাবে। ল্যাটিমারের সাথে হেলেন খুব বেশি জড়িয়ে পড়ুক, এটা চায় না সে। ইতোমধ্যেই কত দূর চলে গেছে ওদের সম্পর্ক, কে জানে!

তার জানা আছে, যত দিন পর্যন্ত হেলেনকে পটিয়ে নিজের সাথে যাওয়ার জন্য রাজি করাতে না পারছে ল্যাটিমার, তত দিন এখানেই থেকে যাওয়ার চেষ্টা করবে সে। কিন্তু আজ রাতেই শেষ হয়ে যাবে সব। ল্যাটিমারের সাথে সে-ও যাবে শহরে। তবে শহর পর্যন্ত ল্যাটিমার কখনই পৌছাতে পারবে না। তার আগেই ডুবে যাবে বোট।

বোট কিভাবে ডোবাতে হয় জানা আছে নোলানের। ল্যাটিমার খুব ভাল সাঁতার জানে না, এটা সে আগেই জেনেছে। তাছাড়া, হৃৎপিণ্ডে পয়েন্ট ফোর ফাইভের বুলেট নিয়ে কেউ সাঁতার কাটতে পারে না। ল্যাটিমারকে খুন করবে সে, তারপর লাশের সাথে পাথর বেঁধে ডুবিয়ে দেবে সমুদ্রে। বোটটা ডুবিয়ে দেবে শহরের কাছাকাছি কোথাও। তারপর সাঁতরে কুলে উঠবে, বোট ডুবে যাওয়ার কথা রিপোর্ট করবে, নতুন একটা বোট ভাড়া করে ফিরে আসবে বাড়িতে। আজ রাতে আবহাওয়া ভাল না, পূর্বাভাষে বলা হয়েছে। কেউ সন্দেহ করতে পারবে না তাকে।

আবার আনন্দ ফিরে আসবে হেলেন আর তার জীবনে। সব সময় যেমন ছিল।

অতীতের কথা মনে পড়ল নোলানের। দ্বীপে আসার আগের কথা, যখন বাবার কাছ থেকে পাওয়া ব্যবসা চালাত সে। ধীরে ধীরে হেলেনের সৌন্দর্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ল তার, দেখল পুরুষদের কিভাবে পাগল করে দিতে পারে ও। তীব্র ভালবাসা ছিল ওর জন্য নোলানের মনে। সব সময় উদ্বেগ আর শঙ্কার ভার বইতে বইতে পাগল হয়ে উঠেছিল নোলান, শুধু মনে হতো যে তাকে ছেড়ে চলে যাবে হেলেন। তাই ব্যবসা বিক্রি করে দিল সে। হেলেনকে বলল, লোকালয় থেকে দূরে, শান্ত একটা জীবন চাই তার – তাই একটা দ্বীপে গিয়ে থাকতে চায়, শুধু হেলেনকে নিয়ে। কথাটা সত্যি ছিল, তবে আংশিকভাবে।

এত দিন ভালই ছিল তারা। কিন্তু কে যেন প্রচার করে দিল যে দ্বীপটা খুব সুন্দর, আর সেই কথা শুনে ল্যাটিমার এসে হাজির হলো। নোলান রাজি হলো, তবে এক শর্তে – তার বা হেলেনের কোনো ছবি তোলা যাবে না। বাড়ির সামনে হিবিসকাস ঝোপের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় তাদের দুজনকে দূর থেকে একটা ছবি তোলার অনুমতি দিয়েছে সে কেবল, আর কিছু নয়।

বাড়ির মধ্যে আনমনে ঘুরতে ঘুরতে কখন যেন ল্যাটিমারের ঘরে এসে ঢুকে পড়েছে নোলান। অগোছালো বিছানা, ফটোগ্রাফির জিনিসপত্র ছড়ানো তার উপর। টেবিলের উপর রাখা একটা টাইপরাইটার।

তার পাশে একটা টাইপ করা চিঠি।

ঘুরে দাঁড়াল নোলান। কিন্তু অদৃশ্য একটা আকর্ষণ তাকে বাধ্য করল টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে। ল্যাটিমার নামের লোকটার প্রতি অদম্য কৌতুহল কাজ করছে তার মধ্যে। চিঠিটার দিকে তাকিয়ে রইল সে। শেষ হয়নি চিঠিটা, বেশ কিছুটা বাকি এখনও। পাশে একটা খাম। টাইপরাইটারে ঢোকানো রয়েছে একটা কাগজ, চিঠিটার দ্বিতীয় পৃষ্ঠা।

খামের গায়ে লেখা রয়েছে ল্যাটিমার যে ম্যাগাজিনে কাজ করে তার সম্পাদকের ঠিকানা।

পড়তে শুরু করল নোলান। প্রথমে অলস চোখে, তারপর রুদ্ধশ্বাসে।

‘প্রিয় বার্ট,

যে কাজে এসেছিলাম তা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আরও কিছু দিন থেকে যাচ্ছি একটা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে… বেশ কিছু ছবি তুলেছি, সাথে এমন একটা গল্প পেয়েছি যেটা তোমার মাথা ঘুরিয়ে দেবে!… লোকটা অসুস্থ, বার্ট, পাগল… শকুনের মতো নজর রাখে বৌয়ের উপর। হিংসায় ভরা লোকটার মন। এমনিতে হয়তো হাসি পেতো আমার, কিন্তু ওদের দুজনেরই অনেক বয়স হয়েছে। লোকটার বয়স কম করেও আশি-পচাশি তো হবেই। মহিলার বয়স আন্দাজ করা একটু কষ্ট, তবে এমনই হওয়ার কথা। আমি জানি কাজটা উচিত ছিল না, তবুও মহিলাকে একদিন চাপ দিয়েছিলাম সত্যি কথা বলার জন্য। তুমি হলেও একই কাজ করতে। জানতে পারলাম, কেবল স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়েই সব সহ্য করে যাচ্ছে সে, সব কিছুতে সায় দিচ্ছে। ভাবো একবার! এতগুলো বছর ধরে বৌকে এখানে আটকে রেখেছে লোকটা – সমাজ, সভ্যতা সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। বন্দী করে রেখেছে তাকে। মহিলার সাথে কথা বলে সব পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি আমি। তাই থেকে যাচ্ছি আরও কিছু দিন, দেখি কোনো ভাবে এর একটা সমাধান করা যায় কিনা। সভ্য দুনিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই তাকে, কিছু দিনের জন্য হলেও। একটা ছুটি অবশ্যই পাওনা হয়েছে তার। তোমাকে যদি তার সাথে কথা বলিয়ে দিতে পারতাম… তাহলে বুঝতে, কত কষ্টে আছে সে…’

আরও কথা লেখা আছে চিঠিতে। পুরোটা দুবার পড়ল নোলান। তারপরেও এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল সে পাথরের মতো। বিগত অর্ধ শতাব্দীতে এই প্রথম অনেক কিছু পরিষ্কার ধরা পড়ল তার সামনে।

তারপর স্টাডিতে ফিরে এল সে, ড্রয়ার খুলে বের করল পয়েন্ট ফোর ফাইভ অটোমেটিকটা। চেয়ারে বসে মুখে পুরল পিস্তলের নল, তারপর চাপ দিল ট্রিগারে।

(মূলঃ গিল ব্রিউয়ার)

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *