ধারাবাহিক

জে আর আর টোলকিনের জগদ্বিখ্যাত কল্পকাহিনী “দ্য হবিট” এর বাংলা অনুবাদ – অষ্টাদশ অধ্যায়

জ্ঞান ফেরার পর বিলবো আবিষ্কার করল আশেপাশে কেউ নেই, র‍্যাভেনহিলের পাথুরে মাটির উপর শুয়ে আছে সে। চার দিকে উজ্জল দিনের আলো। শীতে কাঁপছে তার শরীর, কিন্তু মাথায় মনে হচ্ছে আগুন জ্বলছে।

‘মনে হচ্ছে এখনও মরিনি আমি,’ ভাবল সে। ‘কিন্তু বাকিরা কোথায় গেল? যুদ্ধেরই বা কি অবস্থা?’

কোনমতে সোজা হয়ে উঠে বসল সে, তাকাল চারদিকে। চারদিকে বহু গবলিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে মরে পড়ে আছে, কিন্তু কোন জীবিত গবলিনকে চোখে পড়ল না তার। কিছুক্ষণ পর মাথার ব্যথাটা একটু কমে আসল তার, ভাল করে তাকাতে মনে হল দূরে এলফদের দেখা যাচ্ছে। চোখ ডলে ভাল করে তাকাল সে। তাই তো, ওইতো দেখা যাচ্ছে একটা ক্যাম্প, গুহার সদর দরজা দিয়েও যাওয়া আসা করছে লোকজন। কিন্তু সবাইকে কেমন যেন মনমরা, প্রাণহীন মনে হচ্ছে, কোন উত্তেজনা নেই বাতাসে।

‘নিশ্চয়ই জয়ী হয়েছি আমরা!’ ভাবল বিলবো। তারপর দেখতে পেল, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে একটা মানুষ উঠে আসছে, এদিকেই এগোচ্ছে সে। ‘এই যে!’ ডাক দিল বিলবো। ‘শুনতে পাচ্ছ? যুদ্ধের কি খবর?’

‘কে কথা বলে?’ থমকে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাতে লাগল লোকটা, অথচ বিলবোর কাছেই দাঁড়িয়ে আছে সে। তারপর বিলবোর মনে পড়ল, আংটিটা এখনও পরে আছে সে! ‘অদৃশ্য হয়ে থাকার কিছু অসুবিধেও আছে দেখা যাচ্ছে!’ ভাবল সে, তারপর হাত থেকে খুলে ফেলল আংটিটা। ‘আমি বিলবো ব্যাগিনস, থোরিনের সঙ্গী!’ চিৎকার করে জবাব দিল সে।

বিলবোকে দেখতে পেয়ে তাড়াতাড়ি এগিয়ে এল লোকটা। ‘তোমাকেই খুঁজছি আমি,’ বলল সে। ‘আমরা তো তোমাকে মৃতই ধরে নিয়েছিলাম, কিন্তু গ্যান্ডালফ বললেন যে এখানেই শেষবারের মত তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছেন তিনি। তাই ভাবলাম শেষবারের মত একবার খুঁজে আসি। আঘাত কি খুব বেশি তোমার?’

‘তেমন কিছু না, মাথায় পাথর লেগেছিল একটা,’ জবাব দিল বিলবো।

‘ঠিক আছে, তোমাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছি আমি,’ বলে অনায়াসে কোলে তুলে নিল লোকটা বিলবোকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই উপত্যকার মধ্যে খাটানো তাবুগুলোর একটার সামনে বিলবোকে নামিয়ে দিল লোকটা। গ্যান্ডালফ দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানে, একটা হাতে পট্টি বাঁধা, গলার সাথে ঝুলছে। বিলবোকে দেখে আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল তার মুখ।

‘বিলবো! আমি তো ভেবেছিলাম- দেখা যাচ্ছে বেঁচে আছ তুমি! কি ভয়ানক যুদ্ধটাই না হল!’ তারপর হঠাৎ বিষন্ন হয়ে উঠল তার মুখ, বললেন, ‘আমার সাথে এসো।’ বিলবোর হাত ধরে তাবুর ভেতর প্রবেশ করলেন তিনি।

‘থোরিন,’ তাবুতে ঢুকে বললেন গ্যান্ডালফ। ‘বিলবোকে নিয়ে এসেছি আমি।’

তাবুর ভেতর শুয়ে আছে থোরিন ওকেনশিল্ড। পরনের বর্ম খুলে রাখা হয়েছে পাশে, সারা শরীরে তার অজস্র ক্ষতচিহ্ন। বর্মের উপরেও অনেক আঘাতের দাগ, বেঁকে গেছে রক্তমাখা কুঠারটা।

থোরিনের অবস্থা দেখে কোন কথা বলতে পারল না বিলবো। কয়েক মূহুর্ত হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল সে, তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বসল থোরিনের পাশে।

‘বিদায়, চোর মহাশয়,’ ক্লান্ত স্বরে বলল থোরিন, কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। ‘যাওয়ার সময় হয়েছে আমার, স্বর্গের দরজায় আমার জন্য অপেক্ষা করছেন আমার পূর্বপুরুষেরা। পাহাড়ের নিচে ওই বিশাল সম্পদের আর কোন প্রয়োজন নেই আমার। মৃত্যুর আগে তোমাকে বলা কথাগুলো ফিরিয়ে নিতে চাই আমি।’

দুঃখে ভরে উঠল বিলবোর ভেতরটা। থোরিনের কাঁধে হাত রাখল সে। ‘বিদায়, মহানুভব রাজা থোরিন ওকেনশিল্ড! তোমার সাথে এতদূর আসতে পেরেছি সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তোমার প্রতি কোন রাগ নেই আমার।’

‘দেখে যতটা মনে হয় তার চেয়ে অনেক দয়ালু তোমার হৃদয়,’ বলল থোরিন। ‘সাহস আছে তোমার, তার সাথে আছে বুদ্ধি। অন্যরাও যদি তোমার মত সোনাদানার চাইতে ভালবাসা আর আনন্দকে বেশি মূল্য দিত তাহলে হয়তো আরও সুন্দর হয়ে উঠত এই পৃথিবীটা!’ আর কিছু বলতে পারল না থোরিন, চোখ মুদল সে চিরতরে।

আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল বিলবো, তারপর একা একা তাবুর বাইরে বেরিয়ে এসে বসে পড়ল একটা জায়গায়। ঠান্ডা বাতাস বইছে, একটা কম্বল জড়িয়ে নিল গায়ে। কখন যেন বলতে পারবে না, অঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করেছে বিলবো। থোরিনের সকল দোষত্রুটি আর দুর্ব্যবহার সত্বেও সত্যিই পছন্দ করে ফেলেছিল সে দুঃসাহসী বামনকে।

পরবর্তীতে বিলবো জানতে পেরেছিল যে কি ঘটেছিল তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর। তবে না জানলেই হয়তো ভাল হত। অবশেষে অভিযানের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে সে, এবার ঘরে ফেরার জন্য কাঁদছে তার মন।

গবলিনদের যুদ্ধের প্রস্তুতি পাহাড়ী ঈগলদের নজর এড়ায়নি, কারণ সব সময়েই গবলিনদের উপর বিশেষ ভাবে চোখ রাখত তারা। যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তারা নিজেরাও ঈগলদের নেতার নেতৃত্বে পাহাড়ের উপর জড়ো হতে শুরু করে। যুদ্ধের পূর্বাভাষ পেয়েই সেখান থেকে নিঃসঙ্গ পর্বতমালার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় তারা। পাহাড়ের ঢাল থেকে বামন, এলফ আর মানুষদের উপর হামলা চালানো গবলিনদের তারাই হঠিয়ে দেয়, এমনকি ঈগলদের আসতে দেখেই পালাতে শুরু করে কেউ কেউ।

কিন্তু ঈগলদের সাহায্য সত্বেও গবলিনদের সাথে পেরে উঠছিল না বামনরা, ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল গবলিনরা। ঠিক তখনই আবির্ভাব ঘটে বিয়র্নের। পাহাড়ের মত বিশাল আকারের এক ভালুকের চেহারা নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে সে, কোনদিক থেকে এল কেউ দেখতে পায়নি। তার শক্তিশালী থাবা আর চোয়ালের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় গবলিন বাহিনীর যোদ্ধারা। গবলিনদের মাঝ থেকে বর্শার আঘাতে আহত থোরিনকেও উদ্ধার করে সে, আর তার হাতেই মারা পড়ে গবলিন বাহিনীর সর্দার বোলগ।

বোলগের মৃত্যুর সাথে সাথে যুদ্ধের স্পৃহা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় গবলিনদের মন থেকে, পালাতে শুরু করে তারা। তাদের পিছন পিছন ধাওয়া করে বামন আর এলফ যোদ্ধারা, পালিয়ে যাওয়ার আগে হত্যা করে বহু গবলিনকে। বাকিদের কেউ কেউ ডুবে মরে নদীতে, কেউ মরে উড-এলফদের হাতে, নাহয় মার্কউডের জঙ্গলে হারিয়ে যায়। তার পর থেকে বহু বছরের জন্য গবলিনদের অত্যাচারের হাত থেকে বেঁচে যায় সবাই। বিলবো যখন ক্যাম্পে ফিরে এল তখনও গবলিনদের পিছন থেকে ফিরে আসেনি বেশির ভাগ যোদ্ধা, ক্যাম্পে রয়েছে কেবল আহতরা।

‘ঈগলরা কোথায় গেল?’ ঘুমজড়িত কণ্ঠে গ্যান্ডালফকে প্রশ্ন করল বিলবো সে রাতে, কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে সে।

‘পাহাড়ের উপর নিজেদের বাসায় ফিরে গেছে তারা। প্রচুর সোনাদানা দিয়ে তাদের নেতাকে বিদায় জানিয়েছে ডেইন।’

‘দেখা হল না ওদের সাথে,’ বলল বিলবো। ‘ফেরার পথে দেখা হবে নিশ্চয়ই। বাড়ি কবে ফিরছি আমি?’

‘তোমার যখন ইচ্ছা,’ বললেন গ্যান্ডালফ। তবে বাড়ি ফিরতে আরও কয়েকদিন লেগে গেল বিলবোর।

পরদিন থোরিনকে পাহাড়ের গভীরে কবর দেয়া হল। তার বুকের উপর গভীর শ্রদ্ধার সাথে আর্কেনস্টোনটা নামিয়ে রাখল বার্ড। থোরিনের তলোয়ার, ওর্করিস্টকে রাখা হল তার কবরের উপর। শোনা যায় পরবর্তীকালে শত্রুর আগমনের আগে জ্বলে উঠত সেই তলোয়ার, ফলে আগে থেকে সতর্ক হয়ে যেত বামনরা। বামনদের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করা হল ডেইনকে। থোরিনের বারো জন সঙ্গীর ভিতর জীবিত আছে দশ জন। ফিলি আর কিলি মারা গেছে থোরিনকে রক্ষা করতে গিয়ে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত থোরিনকে ঘিরে রাখার চেষ্টা করেছিল তারা। বাকিরা রয়ে গেল ডেইনের সাথেই।

শেষ পর্যন্ত আর পাহাড়ের নিচে জমানো বিশাল সম্পদের পাহাড় ভাগাভাগি করা হল না। তবে মোট সম্পদের চৌদ্দ ভাগের এক ভাগ বার্ডের হাতে তুলে দেয়া হল। ‘মৃত ব্যক্তির প্রতিশ্রুতিকে সম্মান দেখাতে জানি আমি,’ বলল ডেইন। ‘তাছাড়া আর্কেনস্টোন ফিরে পেয়েছে থোরিন।’

সম্পদের ভাগ থেকে কিছু অংশ লেক-টাউন পুনরায় গড়ে তোলার জন্য পাঠিয়ে দিল বার্ড। এলফ রাজার হাতে তুলে দেয়া হল মহামূল্যবান একরাশ পান্না, যেগুলোর মালিক ছিল গিরিয়ন। রাজার অত্যন্ত পছন্দের জিনিস পান্না। তবে সবচেয়ে বড় ভাগটা বিলবোকে দিতে চাইল সে, কিন্তু তা নিতে অস্বীকৃতি জানাল বিলবো।

‘অনেক ধন্যবাদ তোমাকে,’ বলল সে। ‘কিন্তু ওই বিপুল ধনরত্ন নিয়ে বাড়ি ফিরতে হাজার রকম ঝামেলা পোহাতে হবে আমাকে। তাছাড়া এত সম্পদ দিয়ে কিই বা করব আমি? ওগুলো বরং তোমার কাছেই নিরাপদ।’

তবে বিলবোর কথা শুনতে চাইল বার্ড। তার চাপাচাপিতে দুটো বড় কাঠের বাক্স ভর্তি সোনা আর মূল্যবান পাথর নিতে হল বিলবোকে, যতটা একটা ঘোড়া বহন করতে পারে। ‘এর চেয়ে বেশি নিতে পারব না আমি,’ বলল সে।

বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এল অবশেষে। ‘বিদায়, বন্ধুগণ!’ দশ বামনের কাছ থেকে বিদায় নিল বিলবো, তারপর পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বিদায়, থোরিন, ফিলি, কিলি! তোমাদের কথা কোনদিন ভুলব না আমি।’ বামনরা সবাই মিলে পাহাড়ের সদর দরজায় দাঁড়িয়ে বিদায় জানাল তাকে, ভিজে উঠেছে সবার চোখ। ছোটখাট হবিটকে ভালবেসে ফেলেছে সবাই।

‘সৌভাগ্য তোমার সঙ্গী হোক সবসময়,’ ধরা গলায় বলল বেলিন। ‘আবার এসো আমাদের পাহাড়ে। তোমার জন্য বিশাল ভোজের আয়োজন করব আমরা!’

‘তোমরাও যদি কখনও আমার বাড়ির ওদিকে যাও,’ প্রত্যুত্তরে বলল বিলবো। ‘একবার দেখা করে যেতে ভুলো না!’

তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করল সে।

এলফরাও তাদের ফিরতি পথে যাত্রা শুরু করেছে। যদিও যত জন এসেছিল তার চেয়ে অনেক কমে গেছে তাদের সংখ্যা, তারপরেও ফিরতে পেরে খুশি তারা। শীতের পরেই আসছে বসন্ত, আর এবারের বসন্ত তারা অন্যান্যবারের চাইতেও ভালভাবে উদযাপন করতে আগ্রহী। গ্যান্ডালফ আর বিলবো সঙ্গী হল তাদের, সাথে থাকল বিয়র্ন। মার্কউডের সীমানা পর্যন্ত একসাথে পথ চলল তারা, তারপর থামল, কারন জঙ্গলে ঢোকার ইচ্ছা নেই গ্যান্ডালফ আর বিলবোর, যদিও অনেক অনুরোধ করলেন এলফ রাজা। জঙ্গলের উত্তর দিকে যাবে বিয়র্ন, তার সাথেই যাওয়ার ইচ্ছা গ্যান্ডালফ আর বিলবোর।

জঙ্গলের কিনারে দাঁড়িয়ে একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিল সবাই। বিলবো এগিয়ে গেল এলফ রাজার দিকে, তারপর রূপা আর মুক্তার তৈরি একটা নেকলেস বের করে তুলে দিল তার হাতে।

‘আমার পক্ষ থেকে ছোট্ট উপহার আপনার জন্য,’ বলল বিলবো। বেশ অবাক হলেন রাজা। ‘আমাকে উপহার দেয়ার কারন?’ জানতে চাইলেন তিনি।

‘এক সময় আপনার গুহার ভেতর বেশ কিছু দিন থাকতে হয়েছিল আমাকে,’ বলল বিলবো। ‘অনুমতি ছাড়াই আপনার ভাঁড়ার থেকে খাবার আর ওয়াইন সংগ্রহ করেছিলাম আমি। ধরে নিন এটা তার বদলে দিচ্ছি আপনাকে।’

‘তোমার উপহার গ্রহণ করলাম আমি,’ বললেন রাজা। বিলবো কি বলতে চাচ্ছে বুঝতে পেরেছেন তিনি। ‘এলফদের বন্ধু তুমি, আমার দরজা তোমার জন্য খোলা থাকবে সবসময়। বিদায়!’

জঙ্গলের মাঝে প্রবেশ করল এলফরা, আর গ্যান্ডালফ, বিলবো এবং বিয়র্ন চলতে শুরু করল জঙ্গলের পাশ দিয়ে। ফেরার পথেও নানারকম অভিজ্ঞতা হল বিলবোর, তবে গ্যান্ডালফ এবং বিয়র্ন সাথে থাকায় কোন বিপদে পড়ল না সে। শীতের মাঝামাঝি এক দিন বিয়র্নের বাড়িতে এসে পৌছাল তারা। সেখানে কয়েকদিন থাকল দুজন। চার দিক থেকে জঙ্গলে বসবাসকারী বহু মানুষ আসল তাদের সাথে দেখা করতে। গবলিন আর ওয়ার্গদের দৌরাত্ম থেকে এখন মুক্ত এই এলাকা, সেজন্য সবাই ধন্যবাদ জানাল তাদের।

তারপর, বসন্তের এক উজ্জ্বল দিনে বিয়র্নের কাছ থেকে বিদায় নিলেন গ্যান্ডালফ এবং বিলবো। আবার পথে নামল তারা, এসে পৌছাল সেই জায়গাটায় যেখানে প্রথম গবলিনদের হাতে ধরা পড়েছিল তারা। একটা উঁচু পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে পেছনে তাকাল বিলবো, দেখল সূর্যের আলো ঝলমল করছে বহুদূরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা নিঃসঙ্গ পর্বতের উপর। ড্রাগনের মৃত্যুর পর অবশেষে আবার বরফ জমতে শুরু করেছে সেখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *