টুকরো চিন্তা

এলোমেলো

বিকেল এবং সন্ধ্যা গড়িয়ে মহানগরীর বুকে এক অদ্ভুত মায়াময় রাত নেমে আসে। ওভারব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে থাকা বেকারের হাতে পুড়ে শেষ হয় একের পর এক সিগারেট, নির্বিকার রাস্তায় ধুলো উড়িয়ে একের পর এক যন্ত্রদানব চলে যায় সাই সাই করে। আঙুলের ফাক গলে সিগারেটের আগুন বেখেয়ালে খসে পড়ে নিচে। দেশলাইয়ের শূন্য বুক হাতড়ে যুবক হয়তো ভাবে, দেবে নাকি একটা লাফ?

রাস্তার পাশে চট বিছিয়ে শুয়ে থাকে ভিখিরী। সকাল থেকে জ্বর তার, আজ আর ভিক্ষে করতে বের হয়নি তাই। গত রাতে রেস্টুরেন্টের পাশের ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া বাসি বিরিয়ানির স্বাদ নিতে একবার আঙুলের আনাচে কানাচে জিভ বোলায়, কিন্তু রাস্তার ধুলোতে সেই সুস্বাদ মুছে গেছে কখন! ভিখিরীর হঠাৎ মনে পড়ে, আজ শুক্রবার।

ব্যস্ত নগরীর চৌরাস্তায় এক এক করে এসে দাড়ায় অফিসফেরতা ক্লান্ত মানুষগুলো। লোকাল বাসের অপেক্ষা, হুশ হাশ করে সামনে দিয়ে চলে যাওয়া দামি দামি প্রাইভেটকার গুলোর দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ হয়তো গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, নগরীর বাতাসে ধুলোর মত ভেসে যায় সেই আফসোস। জীবন সংগ্রামে ব্যর্থ মানুষেরা ভাবে, এ জীবনে আর হল না!

শত বছরের প্রাচীনা নগরী, বুকের মাঝে ধারণ করে লক্ষ মানুষের আনন্দ বেদনা পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মেলানো দীর্ঘশ্বাস, হাহাকার। নগরীর পাথুরে দেয়াল দাড়িয়ে থাকে নির্বাক, তার পাশে পড়ে থাকে আকাঙ্খায় সিক্ত পরিত্যক্ত নাগরিকের দল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *